উত্তরবঙ্গ

শিলিগুড়ি টাউন স্টেশন থেকে জংশন পর্যন্ত সৌন্দর্যায়ন করবে শিলিগুড়ি পুরনিগম। বিশ্ব পর্যটন দিবসে প্রস্তাব প্রাক্তন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবের।

শিলিগুড়ি, ২৭ সেপ্টেম্বরঃ শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অনেক ইতিহাস। শুধু বৃটিশ ভারতের ইতিহাস নয়, শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিশ্ব বিখ্যাত দার্জিলিং হিমালয়ান টয় ট্রেনের ইতিহাসও। সোমবার ঐতিহাসিক এই টাউন স্টেশনেই আয়োজিত হল বিশ্ব পর্যটন দিবসের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে এসে শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনকে সাজিয়ে তোলার পাশাপাশি, শিলিগুড়ি টাউন স্টেশন থেকে শিলিগুড়ি জংশন পর্যন্ত রেলপথ সৌন্দর্যায়নের প্রস্তাব দিয়ে গেলেন প্রাক্তন পর্যটনমন্ত্রী তথা শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান গৌতম দেব। এই ব্যাপারে রেল অনুমতি দিলে পুরো কাজটি শিলিগুড়ি পুরনিগম নিজেই করবে বলে জানিয়েছেন গৌতম দেব।

১৮৭৯ সালে স্থাপিত হয় শিলিগুড়ি টাউন স্টেশন। সে সময় কিষাণগঞ্জ থেকে শিলিগুড়ি হয়ে তিস্তার ধার ধরে কালিম্পং পর্যন্ত চলতো ছোট রেল গাড়ি। কয়েক বছর পরে শিলিগুড়ি থেকে কার্শিয়াং হয়ে দার্জিলিং পর্যন্ত যাত্রাপথ শুরু হয় টয় ট্রেনের। পরবর্তীতে, তিস্তার ভাঙনের কারণে কালিম্পং পর্যন্ত টয় ট্রেনের যাত্রাপথ বন্ধ হয়ে গেলেও, শিলিগুড়ি থেকে কার্শিয়াং হয়ে দার্জলিং পর্যন্ত টয় ট্রেনের যাত্রা পথ চালু থাকে। পরবর্তীকালে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ মর্যাদা পায় এই রেলপথ। কিন্তু এই রেলপথের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত টাউন স্টেশনের অবস্থা জড়াজীর্ণ। এই টাউন স্টেশনকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল সেদিনের শহর শিলিগুড়ি। রবীন্দ্রনাথ, বাঘাযতীন থেকে শুরু করে বাংলার তথা ভারতের বিভিন্ন মণিষিদের পা পড়েছিল টাউন স্টেশনে। আর সেই স্টেশনের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতেই এবার সরব হলেন পর্যটন প্রিয় মানুষেরা।

প্রাক্তন পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেবের পাশাপাশি, শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনকে হেরিটেজ স্টেশন হিসেবে গড়ে তুলতে, স্টেশনে একটি ফটো গ্যালারি যাতে করা যায়, তার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পর্যটন বিশেষজ্ঞ রাজ বসু। এই উদ্যোগকে ফলপ্রসূ করতে, শিলিগুড়ি এবং সংলগ্ন এলাকার আপামর মানুষের সহযোগিতা প্রার্থনা করেছেন গৌতম দেব এবং রাজ বাসু দুজনেই।

বিশ্ব পর্যটন দিবসের ছোট্ট অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এদিন শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনে হিমালয়ান হেরিটেজ টয় ট্রেনের একটি ছবি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়।