উত্তরবঙ্গ

রায়গঞ্জে ফের শ্যুট আউট। গুলিবিদ্ধ পুলিশ কর্মীর পরিবারের তিন জন। মৃত এক, আশঙ্কাজনক দুই।

উত্তর দিনাজপুর, ২৭ সেপ্টেম্বরঃ রায়গঞ্জে ফের শ্যুট আউট। গুলিবিদ্ধ একই পরিবারের তিন জন। গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু এক মহিলার। গুলিতে আহত এক পুলিশ কর্মী এবং আরও এক মহিলা। গুলিবিদ্ধ তিন জন সম্পর্কে ভাই বোন। রায়গঞ্জ শহরের দেবী নগর এলাকায় সোমবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ গুলি চালানোর এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রায়গঞ্জ শহজুড়ে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।

ঘটনা সূত্রে জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জের শিলিগুড়ি মোড়ে বাড়ি রয়েছে পুলিশ কর্মী সুজয় কৃষ্ণ মজুমদারের। তিনি শিলিগুড়ির ডাবগ্রামের আর্মড ফোর্সের ১২ নম্বর ব্যাটেলিয়নে কর্মরত। তার বাবা নিখিল কৃষ্ণ মজুমদারও পুলিশের আধিকারিক ছিলেন। নিখিল বাবু রায়গঞ্জের দেবী নগরের বাড়িতে থাকেন। সোমবার সন্ধ্যায় বাবাকে দেখতে দেবী নগরের বাড়িতে আসেন সুজয় বাবু। সেই সময় দেবী নগরের বড়িতে উপস্থিত ছিলেন তার দুই বোন দেবী সান্যাল এবং রুপা অধিকারী। রাতে কয়েকজন দুষ্কৃতি এলাকায় গন্ডগোল শুরু করলে, বাধা দিতে যান পেশায় পুলিশ কর্মী সুজয় কৃষ্ণ মজুমদার। সেসময় সুজয়বাবুকে লক্ষ করে গুলি ছোড়ে দুষ্কৃতিরা। সুজয় বাবুকে বাঁচাতে এসে গুলিবিদ্ধ হন তার দুই বোনও।

দুষ্কৃতিরা তাদের লক্ষ্য করে ৬ থেকে ৭ রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে স্থানীয় সূত্রের খবর। তিন ভাই বোনের গায়েই গুলি লাগে। পেটে গুলি লাগে দেবী সান্যালের। গোলাগুলির শব্দ শুনে এলাকার লোকজন বেরিয়ে আসলে দুষ্কৃতিরা ঘটনাস্থলে থেকে পালিয়ে যায়। এলাকার বাসিন্দারা তিনজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে রায়গঞ্জ গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেলে, চিকিৎসকেরা গুলিবিদ্ধ দেবী সান্যালকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, পুলিশ কর্মী সুজয় কৃষ্ণ সান্যাল এবং তার আর এক বোন রুপা অধিকারীর আশঙ্কাজনক অবস্থায় রায়গঞ্জ মেডিকেলে চিকিৎসাধীন শুরু হয়। রুপা অধিকারীর শারিরীক অবস্থার অবনতি হওয়ায়, তাকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

শ্যুট আউটের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুরোনো বিবাদের জেরেই এই ঘটনা বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের। গুলি চালানোর এই ঘটনা ২০০৮ – ২০০৯ এর রায়গঞ্জের স্মৃতিকে উসকে দিচ্ছে। সেই সময় একাধিক শ্যুট আউটের ঘটনা ঘটে রায়গঞ্জ শহর এবং শহর সংলগ্ন অঞ্চলে। আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েন রায়গঞ্জবাসী। ২০১০ থেকে রায়গঞ্জের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। কিন্তু সোমবার ফের একই পরিবারের তিন সদস্যের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায়, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে রায়গঞ্জ শহর জুড়ে।