উত্তরবঙ্গ

পরকীয়ার অভিযোগে, মহিলার চুল কেটে, মুখে কালি মাখিয়ে, জুতার মালা পড়িয়ে গ্রাম ঘোরালো মাতব্বরেরা।

জলপাইগুড়ি, ২৬ সেপ্টেম্বরঃ ফের মধ্যযুগীয় বর্বরতার সাক্ষী জলপাইগুড়ি। জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি এবং ময়নাগুড়ির পর এবার জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ। পর পুরুষের সাথে সম্পর্কের অভিযোগে, এক মহিলার মাথার চুল কেটে, মুখে কালি মাখিয়ে, জুতার মালা পড়িয়ে তাকে গ্রাম ঘোরানোর অভিযোগ উঠলো মাতব্বরদের বিরুদ্ধে। শনিবার রাতের এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় রাজগঞ্জ থানার অন্তর্গত পানিকৌড়ি গ্রামপঞ্চায়েতের পোষ্কার পাড়া এলাকায়। খবর পেয়ে রাজগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই মহিলাকে উদ্ধার করে। এই বর্বোরচিত ঘটনার তদন্তে নেমে এলাকার তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে রাজগঞ্জ থানার পুলিশ। ধৃতদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে জলপাইগুড়ি জেলা আদালত। নির্যাতিতা মহিলার নিরাপত্তার স্বার্থে, তাকে হোমে পাঠানো হয়েছে।

এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই মহিলার সঙ্গে একাধিক পর পুরুষের সম্পর্ক রয়েছে। বেশ কয়েকবার নিজের স্বামীকে ছেড়ে, বিভিন্ন পর পুরুষের সঙ্গে ওই মহিলা চলে যায় বলেও অভিযোগ। এবারও বেশ কয়েকদিন গ্রামে না থাকার পর ওই মহিলা গ্রামে ফিরলে, তার বিরুদ্ধে স্বামীকে ছেরে পর পুরুষের সঙ্গে রাত কাটানোর অভিযোগ তোলেন এলাকার বাসিন্দারা। ওই মহিলা গ্রামে ফেরার খবর চাউর হতেই, তাকে বাড়ি থেকে টেনে বেড়ে করেন এলাকার মাতব্বরেরা। এরপর গ্রাম ঘুরিয়ে মারধর করে, তার চুল কেটে দেওয়া হয়। তারপর গলায় জুতার মালা পড়িয়ে মুখে কালি মাখিয়ে দেওয়া হয় ওই মহিলার। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রাজগঞ্জ থানার পুলিশ। এলাকবাসীদের বর্বোরচিত নির্যাতনের হাত থেকে ওই মহিলাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এই ঘটনায় একটি সুয়োমোটো মামলা দায়ের করে রাজগঞ্জ থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্তে নেমে তিন জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃত কার্তিক মন্ডল, সুখেস সরকার, কৃষ্ণ দাসকে এদিন জলপাইগুড়ি জেলে আদালতে তোলা হলে, বিচারক তাদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। তার পাশাপাশি নির্যাতিতা মহিলা ও তার সন্তানকে নিরাপত্তার স্বার্থে পাঠানো হয়েছে সেফ কাস্টডিতে।

এর আগেও জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়িতে পরকীয়ার অভিযোগে এক মহিলার চুল কেটে তাকে মারধরের ঘটনায় কড়া ব্যবস্থা নেন জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ সুপার। বর্বরোচিত নির্যাতনের অভিযোগে মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর মধ্যে ৪ মহিলার জামিন মঞ্জুর করলেও আট পুরুষ অভিযুক্তের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় জলপাইগুড়ি জেলা আদালত।