উত্তরবঙ্গ

শুধু প্রেমে ধোকা নয়, প্রেমিকার ৪ লক্ষ টাকা নিয়ে উধাও প্রেমিকা। অভিযুক্তের বাড়ির সামনে ধর্না প্রেমিকার।

জলপাইগুড়ি, ২১ সেপ্টেম্বরঃ সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্ক। তারপর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস। এসব খবর তো আখছারই শুনে থাকবেন। কিন্তু এবার শুধু প্রেমে ধোকা নয়, প্রেমিকার জমানো ৪ লক্ষ টাকা নিয়ে একেবারে উধাও প্রেমিক। আর এরপর সব কিছু বুঝে নিতে প্রেমিকের বাড়ির সামনে ধর্না প্রেমিকার। অন্যদিকে, প্রেমিকার ধর্নার খবর পেয়েই গা ঢাকা দিয়েছে অভিযুক্ত প্রেমিক। শেষ পর্যন্ত বুঝিয়ে সুজিয়ে ওই মহিলাকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। মহিলার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি থানার খাগড়াবাড়ি-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের নীরেন্দ্রপুর এলাকার এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ঘটনাসূত্রে জানা গিয়েছে, বছর দেড়েক আগে ময়নাগুড়ি ব্লকের নীরেন্দ্রপুর এলাকার যুবক রাজকুমার সরকারের সঙ্গে পরিচয় হয়, শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফুলবাড়ির নিজপাড়ার বাসিন্দা সঞ্জু মন্ডলের। ধীরে ধীরে বিবাহিতা সঞ্জুর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে অবিবাহিত রাজকুমারের। রাজকুমারের প্রেমে পড়ে গত বছর পূজার সময় স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করে রাজকুমারের হাত দিয়ে মাথায় নতুন সিঁদুর তুলে নেয় সঞ্জু। প্রেমের ছলে সঞ্জুর গচ্ছিত প্রায় ৪ লক্ষ টাকাও রাজকুমার হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। কিছুদিন আগে সঞ্জুর কিডনির অসুখ ধরা পড়লে দুজনে মিলে গিয়ে চেন্নাই থেকে চিকিৎসাও করে আসে। কিন্তু চেন্নাই থেকে ফেরার পর থেকেই সঞ্জুকে ছেড়ে বেপাত্তা হয়ে যায় রাজকুমার। সঞ্জুর নম্বর ব্লক করে দেয়। যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় দুজনের মধ্যে।

শেষ পর্যন্ত উপায়ন্তর না দেখে নিজের পাওনা গন্ডা বুঝে নিতে, মঙ্গলবার দুপুরে রাজকুমারের এলাকায় গিয়ে উপস্থিত হয় সঞ্জু। ধর্না শুরু হয় রাজকুমারের বাড়ির সামনে। পুলিশের কাছে খবর পৌঁছতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ময়ানাগুড়ি থানার পুলিশ। প্রথমে ধর্না প্রত্যাহার করতে রাজি না হলেও, শেষ পর্যন্ত বুঝিয়ে সুজিয়ে সঞ্জুকে ময়নাগুড়ি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাজকুমার সরকারের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে সঞ্জু মন্ডল। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে রাজকুমার সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা শুরু করেছে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ।

অন্যদিকে, প্রেমিকার ধর্নার খবর পেয়েই এলাকা থেকে বেপাত্তা হয়ে যায় অভিযুক্ত প্রেমিক রাজকুমার সরকার। তবে, রাজকুমারের পাশে দাঁড়ায়নি তার প্রতিবেশীরা। রাজকুমারের বিরুদ্ধে গিয়েই তাঁরা সঞ্জুর জন্য নায্য বিচারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, এই বিষয়ে রাজকুমারের পরিবারের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।