উত্তরবঙ্গ

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর বিক্রি। উপ-প্রধানের বিরুদ্ধে তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের।

মালদা, ২০ সেপ্টেম্বরঃ প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পে ঘর আসার পরেও পাননি উপভোক্তা। অন্য বুথে ঘর বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নং ব্লকের মহেন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শাসকদলের উপ-প্রধান আবু কালামের বিরুদ্ধে। এই ব্যাপারে প্রধান ও উপ-প্রধান কেউই সংবাদ মাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাননি। তাহলে কি উপ- প্রধানের কারসাজিতেই এই ধরনের দুর্নীতি হয়েছে? সেজন্যই কি তারা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। উঠছে প্রশ্ন। এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। শুধু তাই নয়, ১০০ দিনের কাজে, ১৫ দিনের মজুরি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই উপ-প্রধানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বিডিও ও এসডিও।

মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নং ব্লকের মহেন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গাংনদীয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধানের বিরুদ্ধে বিডিও অফিসে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন গাংনদীয়া গ্রামের বাসিন্দা আকতার হোসেন। এমনই গুরুতর অভিযোগ নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হরিশচন্দ্রপুরে।

অভিযোগকারী আখতার হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার তালিকায় তার ও তার স্ত্রীর নাম থাকা সত্ত্বেও মেলেনি কোনো কিস্তির টাকা। তিনি পঞ্চায়েতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তাঁদের আবাস যোজনার টাকার প্রথম কিস্তি, মহেন্দ্রপুর ও রামপুর গ্রামের দুই উপভোক্তার নামে বরাদ্দ হয়েছে। উপ-প্রধানের দুর্নীতির বিষয়টি বিডিওকে লিখিত ভাবে জানাতেই তার দলবলেরা তাকে ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ। আতঙ্কে দিন কাটছে দিনমজুর পরিবারের। অভিযোগ পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে ব্লক প্রশাসন।

উপ-প্রধান আবু কালামের সঙ্গে ফোন মারফত যোগাযোগ করা হলে, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। এমনকি মহেন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জৈনব নেশাও এই ব্যাপারে মুখ খুলতে চাননি।

হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নম্বর ব্লক সভাপতি মানিক দাস জানান, দুর্নীতির ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। ব্লক প্রশাসন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে বলে জানান মানিক দাস। অপরদিকে, অভিযোগ শুনে পুরো ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন চাঁচলের মহকুমাশাসক কল্লোল রায়।