উত্তরবঙ্গ

মিড ডে মিলে বেনিয়ম, কন্যাশ্রীতে কাটমানির অভিযোগ। স্কুলের সামনে বিক্ষোভ অভিভাবকদের।

মালদা, ২০ সেপ্টেম্বরঃ মিড-ডে-মিলে বেনিয়ম। দেওয়া হচ্ছে কম এবং নিম্ন মানের সামগ্রী। মিড ডে মিলে পচা আলু, পোকা ধরা ডাল বিলি করা হচ্ছে ছাত্রদের মধ্যে। এই অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ অভিভাবকদের। শুধু তাই নয়। অভিযোগ, স্কুলের কন্যাশ্রী প্রকল্পে ঘটছে ব্যাপক অনিয়ম। টাকার বিনিময়ে বাইরের বিবাহিত মেয়েদেরকেও কন্যাশ্রীর টাকা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকার বাসিন্দাদের। অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের প্রকৃত ছাত্রীদের কন্যাশ্রী টাকা দিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ টাকা নিচ্ছে বলেও অভিযোগ। আর এই চক্রে প্রধান শিক্ষিক থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের কিছু অশিক্ষক কর্মীও জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকরা। মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লক এলাকার তালগাছি সিনিয়র মাদ্রাসার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ সিনিয়র মাদ্রাসায় মিড ডে মিলের সামগ্রী বিলির দিন ছিল। এদিন মিড-ডে-মিল সামগ্রী নিতে এসে অভিভাবকরা দেখেন, মিড ডে মিলে বরাদ্দ হওয়া চাল, ডাল, আলু, চিনি, সাবান পরিমাণে কম দেওয়া হচ্ছে। যাও বা দেওয়া হচ্ছে তাও নিম্ন মানের। দেওয়া হচ্ছে পোকা ধরা ডাল, পচা আলু। ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে চাল। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানাতে গেলে এ ব্যাপারে তিনি কোনো কর্ণপাত করেননি। এরপরই অভিভাবকরা ওই সামগ্রী নিতে অস্বীকার করেন এবং স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে খাতায় কলমে যত ছাত্র-ছাত্রী দেখানো হয়েছে, আদতে অত ছাত্র-ছাত্রী নেই বিদ্যালয়ে। অভিযোগ, বিদ্যালয়ের কন্যাশ্রী বিলিবন্টনে চূড়ান্ত অনিয়ম চলছে। কন্যাশ্রী পেতে গেলে যথারীতি কাটমানি দিতে হচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষকে। অভিভাবকদের অভিযোগ, এই ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কয়েকজন অশিক্ষক কর্মীও জড়িত আছেন। বিদ্যালয় বহির্ভূত বিবাহিতদেরকেও কন্যাশ্রীর টাকা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে টাকার বিনিময়ে বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকার অভিভাবকরাই।

এই নিয়ে অভিভাবকরা বিক্ষোভ দেখাতে গেলে, স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বচসা বাঁধে অভিভাবকদের। স্কুলের বেনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন করলে, অভিভাবকদের প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এনামুল হক। অবিলম্বে প্রশাসন এই ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে, বড়সড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভিভাবকরা।

এই প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের বিডিও বিজয় গিরি জানান, লিখিত অভিযোগ না পেলেও, বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর নেবেন তিনি।