উত্তরবঙ্গ

চিকিৎসা না পেয়ে খোলা আকাশের নীচেই ৩ দিন পড়ে রইলেন অসুস্থ বৃদ্ধ। নজর এড়াল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।

জলপাইগুড়ি, ২০ সেপ্টেম্বরঃ অমানবিক ময়নাগুড়ি হাসপাতাল। চিকিৎসা করাতে এসেও চিকিৎসা পায়নি এক প্রবীন ব্যাক্তি। হাসপাতাল চত্বরে টানা তিনদিন ধরে মাটিতে উলঙ্গ অবস্থায় পড়ে থাকলেও নজর এড়াল হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের। দেখেও অসহায় মানুষটিকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি কেও। বিষয়টি জনৈক এক সাংবাদিকদের নজরে আসা মাত্রই তড়িঘড়ি চিকিৎসার জন্য এগিয়ে এল কর্তৃপক্ষ। ময়নাগুড়ি গ্রামীন হাসপাতালের এমন অমানবিক কাজে ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। নিন্দায় সরব হয়েছে সাধারন মানুষ। এই ঘটনা কি করে চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মীদের নজর এড়াল তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

এসেছিলেন ময়নাগুড়ি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে। অত্যন্ত শারীরিক দূর্বলতার কারণে হাসপাতাল চত্বরে পৌছাতে পারলেও, পারেননি চিকিৎসকদের কাছে যেতে। টানা ৩ দিন ধরে খোলা আকাশের নীচেই পড়ে রইলেন ৫৫ বছর বয়সী এক প্রবীন ব্যক্তি। শরীরে ছিল না কোন পোশাক। হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসে অনেকেই মানবিকতার খাতিরে এই অভূক্ত অসুস্থ ব্যক্তিকে খেতে দিয়েছিলেন বিস্কুট। সেই বিস্কুট খাওয়ারও সামর্থ ছিল না তার। অসুস্থ ব্যক্তিকে দেওয়া বিস্কুট পেটে পুড়ল এক কুকুর। চেটে দিল অসহায় মানুষটির কপাল। আর এই দৃশ্যই ধরা পড়ল স্থানীয় এক সাংবাদিকের ক্যামেরায়। অভিযোগ টানা ৩ দিন ধরে হাসপাতাল চত্বরে উলঙ্গ অবস্থায় লোকটি পড়ে থাকলেও তাকে সহায়তা বা চিকিৎসা করাতে এগিয়ে আসেনি হাসপাতালের চিকিৎসকরা। তারা প্রত্যেকেই মুখ ফিরিয়ে অসুস্থ ব্যক্তির পাশ কাটিয়ে চলে গেছেন।

বিষয়টি নজরে আসতেই ময়নাগুড়ির সাংবাদিকরা একত্রিত হয়ে অসুস্থ ব্যাক্তির চিকিৎসার জন্য চাপ সৃষ্টি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। প্রথম অবস্থায় চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেওয়ায় খবর যায় পুলিশের কাছে। পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌছালে অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসা করাতে উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। টানা ৩ দিন পর পুলিশ সাংবাদিকদের চাপে পড়ে অসহায় ব্যাক্তির চিকিৎসা শুরু করতে বাধ্য হয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারাও হতবাক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন অমানবিক কাজে। হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকা বৃদ্ধকে দেখে চোখের জল থামিয়ে রাখতে পারেননি এক বৃদ্ধা। তিনি বলেন গরীব বলেই চিকিৎসা করাতে আসি সরকারী হাসপাতালে। আর সেখানে চিকিৎসকদের অমানবিকতা মেনে নেওয়া যায়না। এলাকারই এক কিশোরী বলেন, হাসপাতালের ভেতরে উলঙ্গ অবস্থায় পড়ে রয়েছে এক বৃদ্ধ। তার কপালে গায়ে কুকুর চেটে যাচ্ছে, এসব চোখে দেখা যায়না। এত মানুষের মনে বিষয়টি পীড়া দিলেও কি করে হাসপাতাল কতৃপক্ষের নজর এড়ালো তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

অসুস্থ ব্যাক্তির পরিচয় জানা যায়নি। কেও কেও বলছেন সে ময়নাগুড়ির আনন্দনগরের বাসিন্দা। এই অমানবিক ঘটনার ছবি খবর করতে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বাধার মুখে পড়তে হয় সাংবাদিকদের। এই ঘটনা চরম অমানবিক নিদর্শন বলে মনে করছেন সকলেই। অনেকেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তুলেছেন। যদিও এই বিষয়ে কোন মন্তব্যই করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নিন্দার ঝড় উঠেছে ময়নাগুড়িতে।