আমফান

আমফানে ক্ষতিগ্রস্থ জঙ্গলের ফেনসিং, বাঘ ঢোকার আশঙ্কায় সুন্দরবন এলাকার মানুষেরা

দক্ষিণ বঙ্গ ব্যুরো, ২১ মেঃ জঙ্গল থেকে বাঘ বরিয়ে আসার আশঙ্কায়, এখন কাঁপছেন সুন্দরবনের মানুষ। করণ, আমফান ঝড়ের দাপটে তছনছ হয়ে গিয়েছে সব। একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাড়িঘর, তেমনি অন্যদিকে জঙ্গল লাগোয়া বন দপ্তরের দেওয়া ফেনসিং-এরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে ঝড় শেষ হওয়ার পর যেকোনও সময় জঙ্গল থেকে বাঘ বেড়িয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আমফান ঝড় শুধু গ্রাম তছনছ করেনি, উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছে প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের চাল। বাঘ বের হলে তাকে কাবু করতে সজনেখালিতে রাখা হয়েছিল ট্রানক্যুলাইজার টিম। আমফানের পরিপ্রেক্ষিতে তাদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাঘা ঢুকলে, তাকে কাবু করার কাজ কিভাবে হবে সে নিয়েও আশঙ্কা তৈরী হয়েছে। যার ফলে ঘর বাড়ি হারিয়ে, এখন বাঘ ঢোকার আশঙ্কায় ভুগছেন সুন্দরবনের জঙ্গল লাগোয়া এলাকার মানুষেরা।

বকখালি, ঝড়খালি,বসিরহাটের সর্বত্র চলেছে আমফানের তাণ্ডব। বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় কন্ট্রোল রুমে বসে খবর নিয়েছেন। তিনি জানান, “চারিদিকের অবস্থা খারাপ। টানা যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। যতটুকু খবর পেয়েছি তাতে প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। বাঘের সংখ্যা বেড়েছে সুন্দরবনে। সে কথা মাথায় রেখে বিপর্যয়ের আগে বাড়তি সুরক্ষা নেওয়া হয়েছিল। যতটা সম্ভব বাড়তি বেড়া ও জাল লাগানো হয়েছিল। গ্রামের কাছে রাখা হয়েছিল ট্রানক্যুলাইজার টিমও। কিন্তু সবই নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে খবর পেয়েছি। ভেঙে গেছে পাখিরালয়ের জেটিও। খবর আদানপ্রদান করাও যাচ্ছে না। রেডিও ট্রান্সমিটারের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।পরিস্থিতি শান্ত হলে সবটা খতিয়ে দেখা হবে।"

একদিকে, জঙ্গল থেকে রক্ষা করার জন্য জঙ্গলের ধার দিয়ে লাগানো ফেন্সিং-এর ক্ষিতি, অন্যদিকে যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপর্যয়। এই দুই-এ মিলে এলাকায় বাঘ ঢুকলেও, সেই খবর বন দপ্তরের কাছে কিভাবে পৌছনো যাবে সে নিয়েও সংশয় তৈরী হয়েছে। অন্যদিকে, গাছ পড়ে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া ট্রানক্যুলাইজার টিমকে চটজলদি কিভাবে অ্যাকশনে আনা যাবে, তা নিয়েও চিন্তায় রয়েছে বন দপ্তর। সব মিলিয়ে, আমফানের জেরে এখন ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বাঘের আতঙ্ক গ্রাস করেছে সুন্দরবন এলাকার মানুষদের।

শুরু হচ্ছে বাগডোগরায় বিমান চলাচল, সপ্তাহে চলবে মাত্র ৮ টি বিমান Read More..