আমফান

বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি ঘূর্ণীঝড় “আমফান”-এর জেরে প্রভাব পড়বে পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর ওড়িশা উপকূলে

ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের জাতীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্রের সর্বশেষ উপগ্রহ চিত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ীঃ-


● ঘূর্ণীঝড়ের গতিবেগ থাকবে প্রতি ঘন্টায় ২২০-২৩০ কিলোমিটার।

● আগামী ২০ মে বিকেল অথবা সন্ধ্যার দিকে তীব্র ঘূর্ণীঝড় হিসেবে "আমফান" পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল দীঘা (পশ্চিমবঙ্গ) এবং বাংলাদেশের সুন্দরবন সংলগ্ন হাতিয়া দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে অতিক্রম করবে।

● ঘূর্ণীঝড় যখন সমতলে আছড়ে পড়বে তখন বাতাসের বেগ প্রতি ঘন্টায় ১৬৫-১৭৫ থেকে ১৯৫ কিলোমিটার থাকবে

● আগামীকাল এবং ২০ মে ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় জেলা, পূর্ব মেদিনীপুর ও দুই ২৪ পরগণায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া, হুগলী, কলকাতা ও পশ্চিম মেদিনীপুর সংলগ্ন জেলায় ২০ মে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

● সমুদ্রে ৪-৬মিটার পর্যন্ত ঢেউ উঠতে পারে।

● এই ঘূর্ণীঝড়ের দরুণ বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

(ক) কাঁচা ও পুরানো বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
(খ) পোস্টার, ব্যানার, হোর্ডিং-এর মতো সামগ্রী রাস্তায় উড়ে পড়তে পারে।
(গ) টেলিফোন ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যেতে পারে।
(ঘ) বড় গাছ ভেঙে পড়তে পারে এমনকি সড়ক ও রেল যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হতে পারে।

● এই কারণে দূর্যোগের সময় সকলকে নিরাপদে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে।

● নিচু এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

● এই সময় ফেরি যোগাযোগ বন্ধ রাখা হবে। বেশ কিছু ট্রেনের যাত্রাপথের পরিবর্তন করা হতে পারে।

● ১৯ এবং ২০শে মে মৎসজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

এই প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে সোমবার বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও সংস্থা এবং রাজ্যগুলি সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ কেন্দ্রের বিভিন্ন দপ্তর ও আবহাওয়া দপ্তর, জাতীয় বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি-এনডিএমএ) এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স –এনডিআরএফ) –এর উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঘন্টায় ১৯৫ কিমি বেগে এই ঘূর্ণিঝড় ২০ মে, সন্ধ্যেবেলা পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আছড়ে পড়বে। যার ফলে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে প্রবল বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা আছে।

পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগণা, কলকাতা, হাওড়া ও হুগলী, এই ঘূর্ণিঝড়ে সবথেকে বেশি প্রভাবিত হবে। জগৎসিংপুর, কেন্দ্রাপাড়া, ভদ্রক এবং বালাসোর সহ উত্তর ওডিশার উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে এই ঘূর্ণিঝড় প্রভাব ফেলতে পারে।

আবহাওয়া দপ্তর, সতর্ক করে জানিয়েছে, এই ঝড়ের ফলে ৪ – ৫ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হতে পারে। যার ফলে দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগণার সমুদ্রতটবর্তী নিচু এলাকা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নিচু এলাকাগুলি জলমগ্ন হতে পারে।

সম্ভাব্য যে জায়গা দিয়ে এই ঘূর্ণিঝড় যেতে পারে, সেখানকার সমস্ত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ত্রাণ ও উদ্ধারের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণেরও পরামর্শ দেন তিনি।

বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ পরিষেবা যেন বিপর্যস্ত না হয়ে পড়ে এবং ঘূর্ণিঝড়ের পর কোনো এলাকায় পরিষেবা ব্যাহত হলে ঐ জায়গায় মেরামতির কাজ যেন দ্রুত করা যায়, সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনী এবং নৌবাহিনীর জাহাজ ও হেলিকপ্টারগুলিকে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেনাবাহিনী এবং বায়ুসেনাকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এনডিআরএফ –এর ২৫ টি দল পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশায় বিভিন্ন জায়গায় মোতায়েন করা হয়েছে। ১২ টি দলকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এই দলের সদস্যদের সঙ্গে নৌকো, গাছকাটার যন্ত্রপাতি, টেলিকম পরিষেবার সরঞ্জাম সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিকে সর্বশেষ পরিস্থিতির বিষয়ে জানাবে, কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও রাজ্যগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে।

শুরু হচ্ছে বাগডোগরায় বিমান চলাচল, সপ্তাহে চলবে মাত্র ৮ টি বিমান Read More..