উত্তরবঙ্গ

গ্রেফতার আন্তর্জাতিক পাখি পাচার চক্রের কিং পিন। নেপালে পাচারের আগে উদ্ধার ১১ টি টিয়ার বাচ্চা।

গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পাখী পাচার চক্রের মূল পান্ডাকে গ্রেফতার করলো বৈকুন্ঠপুর বন বিভাগের স্পেশাল টাক্স ফোর্স। সোমবার গভীর রাতে শিলিগুড়ি ইস্টার্ণ বাইপাস সংলগ্ন গোড়া মোড় এলাকা থেকে, ১১ টি টিয়ার বাচ্চা সহ পাচার চক্রের কিং পিন মহম্মদ উকিলকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগেও দু-দুবার নাগালের মধ্যে এসেও, বন দপ্তরের হাত ফস্কে পালিয়ে যায় পাখী পাচার চক্রের কিং পিন মহম্মদ উকিল। ধৃত মহম্মদ উকিল, টিয়ার বাচ্চাগুলি নেপালে পাচারের চেষ্টা করছিলো বলে বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার ধৃতকে জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে পেশ কোরে, তদন্তের স্বার্থে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে বন দপ্তর।

বেশ কিছুদিন ধরেই, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে কলকাতা এবং নেপাল সহ বিভিন্ন জায়গায় পাখী পাচারের খবর আসছিলো বন দপ্তরের কাছে। সেই মোতবাকে অভিযান চালিয়ে, পাচার হওয়ার আগে বেশ কয়েকবার পাখী সহ পাচারকারীদের গ্রেফতার করে বৈকুন্ঠপুর বন বিভাগের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। কিন্তু প্রতিবারই বন দপ্তরের হাত ফস্কে পালিয়ে যায়, আন্তর্জাতিক পাখি পাচার চক্রের কিং পিন মহম্মদ উকিল। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে, সোমবার গভীর রাতে শিলিগুড়ি ইস্টার্ণ বাইপাস সংলগ্ন গোড়া মোড় এলাকা থেকে, ১১ টি টিয়ার বাচ্চা সহ আন্তর্জাতিক পাখি পাচার চক্রের কিং পিন মহম্মদ উকিলকে গ্রেফতার করলো বৈকুন্ঠপুর বন বিভাগের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। টিয়ার বাচ্চাগুলিকে নেপালে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো বলে জানিয়েছেন, বৈকুন্ঠপুর বন বিভাগের বেলাকোবা রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয় দত্ত।

পাখী পাচার চক্রের সঙ্গে কলকাতা এবং নেপালের বেশ কিছু পাখী কারবারীর যোগাযোগ রয়েছে বলে, ধৃতকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছে বন দপ্তর। উত্তরঙ্গের বিভিন্ন জঙ্গল সংলগ্ন এলাকার মানুষদের টোপ দিয়ে, তাদের কাছ থেকে ১০০ বা ২০০ টাকা দিয়ে টিয়া, ময়ন সহ বিভিন্ন রকম পাখী কেনার পর, সেগুলিকে পাচারকারীরা দু হাজার থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি করতো বলে জানিয়েছেন বেলাকোবা রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয় দত্ত।

বন্যপ্রাণ পাচারকারীদের কাছে, উত্তরবঙ্গ বরাবরই গোল্ডেন টার্গেট। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে চিতা বাঘের চামড়া, হাতির দাঁত এবং গন্ডারের খর্গ পাচারের সময় বন দপ্তরের জালে ধরা পড়ে একাধিক বন্যপ্রাণ পাচারকারী। এবার উত্তরবঙ্গ থেকে, আন্তর্জাতিক স্তরে পাখি পাচার নতুন করে বন দপ্তরের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাচার চক্রের কিং পিন মহম্মদ উকিলকে জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ কোরে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার পর, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে, পাচার চক্রের ক্রস বর্ডার লিঙ্ক খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে বন দপ্তর।