রাজ্য

রাস্তা তৈরিতে বাঁধা দেওয়ায় মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার হলেন এক শিক্ষিকা।

রাস্তা তৈরিতে বাঁধা দেওয়ায় মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার হলেন এক শিক্ষিকা। মারধরের পাশাপাশি হাতে পায়ে দড়ি বেধে প্রকাশ্য রাস্তায় টেনে হিচড়ে নিয়ে গেলেন তৃনমূল নেতারা। এমন অমানবিক ঘটনা ঘটেছে গঙ্গারামপুর ব্লকের নন্দনপুর গ্রামে। এই ভয়ংকর ঘটনার ছবি ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। এরপরই এই বর্বরচীত ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তৃনমূল নেতা স্থানীয় উপপ্রধান অমল সরকারকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জেলা তৃনমূল। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

রাস্তা তৈরিতে বাঁধা দেওয়ায় মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার হলেন এক শিক্ষিকা। রাস্তা তৈরিতে বাঁধা দেওয়ার অপরাধে এক শিক্ষিকাকে হাতে পায়ে দড়ি বেধে প্রকাশ্য রাস্তায় টেনে হিচড়ে নিয়ে গেলেন স্থানীয় জনা কয়েক তৃনমূল নেতা। মারধর করা হয়েছে শিক্ষিকার দিদিকেও। এমনই অমানবিক ঘটনা ঘটেছে গঙ্গারামপুর ব্লকের নন্দনপুর গ্রামে। এই বর্বরোচিত ঘটনায় তোলপাড় গোটা রাজ্য। জানাগেছে, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় গঙ্গারামপুর ব্লকের নন্দনপুর থেকে হাপুনিয়া পর্যন্ত রাস্তা তৈরির কাজ করছিল জেলা পরিষদ। গত এক বছর আগে রাস্তা নির্মানের কাজ শুরু হলেও আইনীজটিলতায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল রাস্তা নির্মানের কাজ। পরবর্তীতে আইনীজটিলতা কাটিয়ে ফের শুরু হয় রাস্তা নির্মানের কাজ। নন্দনপুর গ্রামের শিক্ষিকা স্মৃতিকনা দাসের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মান করতে গেলে নির্মান কার্‍্যে বাঁধা দেয় স্থানীয় শিক্ষিকা। এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন নন্দনপুর গ্রামের তৃনমূলের উপপ্রধান অমল সরকার ও তার জনা কয়েক সাকরেদ তপন শীল, রতন শীল, উজ্জ্বল সরকার ও গোবিন্দ শীল। আর এর পরই শিক্ষিকাকে মারধর শুরু করে এই তৃনমূল নেতা কর্মীরা। মারধরের পর স্মৃতিকনা দাসের হাতে পায়ে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্য রাস্তায় কুকুরের মতো টেনে হিচড়ে নিয়ে যান অমল সরকারের দলবল। শিক্ষিকাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন স্মৃতিকনার দিদি সোমা দাস। সোমা দাসকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। শেষে দুজনকেই তাদেরই বাড়ীর গেটের সাথে দড়ি দিয়ে বেধে রেখে চলে যায় উন্মত্ত নেতারা। এই মধ্যযুগীয় বর্বরতার ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই নিন্দার ঝড় ওঠে গোটা রাজ্য জুড়ে। আক্রান্ত স্মৃতিকনা দাস জানিয়েছেন, রাস্তা নির্মানের জন্য ১২ ফুট জায়গা দেওয়ার পড়েও আরও জমি দখলের চেষ্টা করছিল অমল সরকারের দলবল। এর প্রতিবাদ করতেই শ্লীলতাহানীর পাশাপাশি বর্বোরচীত আচরন করেছে তারা। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন গঙ্গারামপুরের কালদিঘি হাসপাতালে।

এই ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছে বিজেপির জেলা নেতৃত্ব। এই বর্বরোচীত ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তৃনমূল নেতা অমল সরকার সহ অন্যদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবী করেছে বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার।

রবিবার সকালে গঙ্গারামপুর থানায় অভিযুক্ত তৃনমূল উপপ্রধান অমল সরকার সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে স্মৃতিকনার পরিবার। এই ঘটনার ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই বিপাকে পড়ে যায় স্থানীয় তৃনমূল নেতৃত্ব। এদিন অভিযুক্ত অমল সরকারকে দল থেকে বহিষ্কার করে জেলা তৃনমূল নেতৃত্ব বলে জানাগেছে।